কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখার উপায়

কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখাঃ কম্পিউটার আমাদের সকলেরই অতি দরকারী এবং প্রয়োজনীয় একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আমরা এই কম্পিউটারের সাহায্যে করতে পারি। তেমনি, এই কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখা আমাদের দায়িত্ব। কম্পিউটারিকে নিরাপদ না রাখলে কম্পিউটার হ্যাক হয়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে বা কম্পিউটারে রাখা দরকারী ফাইল গুলো নস্ট হয়ে যেতে পারে। আর আমরা কেউ চাই না আমাদের কম্পিউটারে রাখা ফাইল গুলো চুরি বা নষ্ট যাক।

আরো পড়ুনঃ

প্রতিনিয়ত হ্যাকারা কোন না কোন কম্পিউটার হ্যাক করছে তাদের নিজের কিছু ভুলের জন্য। আপনিও যদি এই ভুলগুলো করে তাহলে আপনার কম্পিউটারও হ্যাকের শিকার হতে পারেন। আর, আপনি নিশ্চয়ই কখনো চাইবেন না আপনার কম্পিউটার হ্যাক হোক। তাই এই আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়ুন। এই আর্টিকেলটিতে আমরা কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখার উপায়গুলো সম্পর্কে জানব।

কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখার উপায়

শুধু এই আর্টিকেলটি পড়লেই হবে না। এই আর্টিকেলটি পড়ে এর নিয়ম গুলো মানুন। তাহলে আপনার কম্পিউটার অনেক নিরাপদ রাখতে পারবেন।

অপারেটিং সিস্টেম

কম্পিউটারকে পরিচালনা করার জন্য অপারেটিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কখনো কোন কম্পিউটার চালানো সম্ভব না। আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত বা নিরাপদ রাখার জন্য অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করতে হবে।

কখনো কোন ক্রমেই নাল বা ক্রাক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন না। আমরা যার কম্পিউটার ব্যবহার করি তাদের অধিকাংশই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি। আপনি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুন তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু, আপনি কি জেনুইন ভাবে এটি ব্যবহার করছেন? অনেকে হয়তো জানেন না উইন্ডোজ কোন ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম নয়। তাদের উদ্দেশ্যে বলে নিচ্ছি উইন্ডোজ জেনুইন ভাবে ব্যবহার করতে মাইক্রোসফট থেকে এর লাইসেন্স কি কিনতে হয়।

তাছাড়া যখন ডেক্সটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ তৈরি করে নিবেন তখন তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে নিবেন এতে জেনুইন উইন্ডোজ আছে কি না।

আপনার কম্পিউটারের যদি অরিজিনাল উইন্ডোজ না থাকে তাহলে এটি আজই পরিবর্তন করুন। নাল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে যে কেউ আপনার কম্পিউটারের উপর নজরদারি করতে পারে। তাছাড়া আপনার কম্পিউটারের ডেটা চুরি হতে পারে।

অরিজিনাল উইন্ডোজ কেনার টাকা না থাকলে আপনি নিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এটি একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহার করতে কোন টাকা লাগে না। আর লিনাক্সের সিকিউরিটি উইন্ডোজের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী।

অপারেটিং সিস্টেমকে সবসময় আপডেটেড রাখুন
নাল, ক্রাক মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেমকে সবসময় আপডেটেড রাখার চেষ্টা করুন। অনেকেই আছেন যারা অপারেটিং সিস্টেমকে আপডেটেড করতে অনীহা প্রকাশ। কিন্তু, আপনার কখনো এমনটা করা উচিত হবে না। কোন সিস্টেম আপডেট এমনি এমনি এসে না। প্রতিটি আপডেটে অপারেটিং সিস্টেমের কোম্পানি সিস্টেমের কোন না কোন বাগ ফিক্স করে, সিকিউরিটি আপডেট করে বা নতুন ফিচার সংযুক্ত করে। তাই আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখার জন্য আপনার উচিত হবে আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমকে আপডেটেড রাখা।

নাল বা ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার না করা

নাল বা ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার না করে কম্পিউটারকে অনেক নিরাপদ রাখা যায়। নাল বা ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেরই কম্পিউটারে ভাইরাসের/ ম্যালওয়্যারে আক্রমণ হয়েছিল। কম্পিউটারে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ হলে আপনার কম্পিউটারে থাকা সকল ফাইল নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় আপনার ব্রাউজারে লগিন থাকা ফেসবুক, জিমেইল ইত্যাদি অ্যাকাউন্টও হ্যাক হতে পারে।

যদি আপনাকে নাল বা ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করতেই হয় তাহলে আগে শিওর হয়ে নিন সেই নাল বা ক্রাক সফটওয়্যারটি নিরাপদ। আপনার বন্ধু-বান্ধব দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর যদি কোন সমস্যার সম্মুখীন না হয় তবে ব্যাবহার করতে পারেন। তবে, এটি যে ১০০% নিরাপদ হবে তা কিন্তু নয়। এটির কারণে আপনার কম্পিউটার হ্যাকও হতে পারে। তাই আমি কখনো এমন আপনাকে এমন সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দিব না।

বিশ্বস্ত সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করুন

ফাইল ডাউনলোড করতে গিয়ে অনেকেই তাদের কম্পউটার হ্যাকে সম্মুখীন হয়েছে। তাই ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড করার আগে সতর্ক থাকতে হবে। অনিরাপদ এবং অবিশ্বস্ত সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

যদি কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড করা প্রয়োজন পরে তাহলে বিশ্বস্ত সাইট যেমনঃ মাইক্রোসফট স্টোর, সফটোনিক ইত্যাদি থেকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন। ফাইল ডাউনলোড করার ক্ষেত্রেও আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

টিপসঃ ক্রাক সফটওয়্যার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা থেলে বিরত থাকুন। ডাউনলোড করার প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত সাইট থেকে ডাউনলোড করুন। কোন সাইট থেকে ডাউনলোড করা কোন সফটওয়্যারেকে ইন্সটল করার আগে ফাইলটি স্ক্যান করে নিন। এরপর, লোগো ও টাইটেল দেখে কনফার্ম হন আপনি যেই ফাইলটি ডাউনলোড করেছেন এটিই সেই ফাইল। অনেক সময় এক ফাইল ডাউনলোড করতে গিয়ে পপ আপের কারণে অন্য ফাইল ডাউনলোড হয় যায়। আপলোড করা ফাইলটি গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স, মিডিয়া ফায়ার ইত্যাদি বিশ্বস্ত ক্লাউড স্টোরেজ আপলোড করা থাকলে কিছুটা নিরাপদ মনে করা যায়।

এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

আপনি যদি আপনার কম্পিউটারকে অনেক নিরাপদ রাখতে চান তাহলে আপনার উচিত হবে একটা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার শুধু আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদই রাখে না। এটি আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়াতে সাহায্যও করে। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করলে আপনি অতি সহজেই যাংক ফাইল (Junk File) মুছে ফেলতে পারবেন। এছাড়া, কম্পিউটারের পার্ফমেন্স ও এনালাইসিস করতে পারবেন।

কিছু কিছু এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার আছে যারা আপনাকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রেও সুরক্ষা প্রদান করবে।

যদি আপনি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে না চান তাহলে একটু বেশী সতর্কতার সাথে আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করুন। উইন্ডোর অপারেটিং সিস্টেমের ডিফল্ট সিকিউরিটি মোটামুটি ভালো তবে উইন্ডোজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশী সতর্ক থাকুন।

এক্সটার্নাল কোন ডিভাইস কানেক্ট

অনেক সময় আমরা আমাদের কম্পিউটারে পেনড্রাইভ, কার্ড রিডার ইত্যাদি ডিভাইস কানেক্ট করে থাকি। এসব ডিভাইস কানেক্ট করার পর অবশ্যই ডিভাইসটিকে স্ক্যান করে নিবেন। কেননা এসব ডিভাইসে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার থাকলে আপনার কম্পিউটারও ইনফেক্টেড হতে পারে।

তাই ডিভাইস এসব ডিভাইস ঢোকানোর পর স্ক্যান করে নেওয়া বুদ্ধিমানে কাজ হবে। স্ক্যান করার জন্য আলাদা কোন সফটওয়্যারের প্রয়োজন পড়বে না। সিস্টেমের ডিফল্ট সিকিউরিটতেই এটি পাবেন।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার গুলো মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়াচ্ছে। আপনি যদি আপনার কম্পিউটারে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সেক্ষেত্রে অনেক বেশী সাবধান ও সতর্ক হতে হবে।

কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে আপনি যদি নতুন হন তাহলে জানা শোনা ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন। এর পাশাপাশি কারো পাঠানো কোন লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। ফাইল ডাউনলোড করার ক্ষেত্রেও একই বিষয় মেনে চলুন। প্রয়োজনে কোন এক্সপার্টের সহায়তা নিন।

উপসংহার

এই আর্টিকেলটিতে বলা সব নিয়ম গুলো মেনে আপনি যদি আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাহলে ৯৯.৯% নিরাপদ থাকতে পারবেন বলে আমি মনে করি। আর ০.১% কী অনিরাপদ? কিন্তু কেন?

হ্যা, এই ০.১% অনিরাপদ। কেননা আপনি কখনোই কোন জিনেসে ১০০% পার্ফেক্ট না। আর এই বিশ্বের কোন কিছু ১০০% নিরাপদ না। ধরেন যদি কোন ভাবে আপনার ব্যবহার করা অপারেটিং সিস্টেমের মেইন সার্ভার হ্যাক হয়ে যায় তাহলে কি আপনার কম্পিউটার নিরাপদ থাকবে?

তবে, একজন নিয়মিত কম্পিউটায়া ব্যবহারকারী হিসাবে আমার বলা এই নিয়মগুলো আপনার মেনে চলা উচিত। কেননা কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখার এগুলোই মূল মন্ত্র।

Leave a Comment