গেমিং ফোনঃ গেমিংয়ের জন্য কেমন ফোন কেনা উচিত

গেম খেলা আমাদের প্রায় সবার কাছেই পছন্দনীয়। গেমিং ফোন একটি ফোন কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে এই আর্টিকেল। এই আর্টিকেলটি পড়ে গেমিংয়ের জন্য কেমন ফোন কেনা উচিত তার অনেকটা ধারনা আপনি পেয়ে যাবেন।

মোবাইল ফোন আমাদের প্রত্যকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। অনেক রকমের কাজ আমরা এই ফোন দিয়ে করতে পারি। ভিডিও দেখা, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, কথা বলা ইত্যাদি রকমের কাজ। তবে এখন অনেকেই গেম খেলার জন্য মোবাইল ফোন খুজে থাকে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা গেম পাগল। এই গেম পাগলের ফোন আরেকটু ভালো মানের হওয়া উচিত কী বলেন? নয়তো গেম খেলার সময় মোবাইল থেকে ভালো পারফর্মেন্স বা পেলে কখন বা মোবাইলটিকে আছড়ে ভেঙ্গে ফেলে!! তার কী কোন ঠিক আছে নাকী?

আরো পড়ুনঃ

যেটাই বলি না কেন আমরা অবশ্যই কোন না কোন দিন একবার হলেও মোবাইলে গেম খেলেছি। তবে এখন আর আগের যুগের ক্লাসিক গেমগুলোর যুগ আর নাই। এখন যে সব গেম বাজারে রাজত্ব করছে তা হলো ব্যাটেল রয়েল গেম। এই সব গেম ভালোভাবে খেলা ও ফোনে রান করার জন্য ভালো গ্রাফিক্স, র‍্যাম, রোমের ফোন প্রয়োজন। মোবাইল ফোন ভালো না হলে এই গেমগুলো খেলে আপনি তেমন উপভোগ করতে পারবেন না।

আপনি যদি একজন গেম পাগল হয়ে থাকেন আর, গেম খেলার জন্য ভালো একটি মোবাইল ফোন কিনতে চাচ্ছেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হতে পারে। কেননা এই আর্টিকেলটিতে আমরা গেমিংয়ের জন্য কেমন ফোন কেনা উচিত তা নিয়েই আলোচনা করব। যা আপনি টাইটেল দেখেই বুঝতে পেরেছে।

যদিও একসময় গেমিং ফোন নেওয়ার খুব একটা প্রচলন ছিল না। মানুষ সব দিক বিবেচনা করে ফোন নিত। কিন্তু, সময়ের সাথে সব পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাইতো বিভিন্ন নামি দামী কোম্পানিরাও গ্রাহকের কথা ভেবে গেমিং ফোন নিয়ে আসছে। তো, এখন আর্টকেলটির মূল বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

গেমিং ফোন কেমন কেনা উচিত?

যেহেতু আমাদের টার্গেটটি গেমিং ফোন কেনার জন্য তাই গেমিং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচনা করা বেশী ভালো হবে। যেমনঃ র‍্যাম, রোম, প্রসেসর ইত্যাদি। আর এগুলোই কিন্তু কোন ফোনের প্রধান বিষয়। আপনি গেমিংয়ের জন্য ফোন কিনলে তা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না তা কিন্তু নয়। আপনি অবশ্যই গেমিং ফোন সাধারণ ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রসেসর ও গ্রাফিক্স

প্রথমেই আসি প্রসেসরের কথায়। একটি গেমিং ফোন হিসাবে অবশ্যই সেই ফোনের প্রসেসর অন্যান্য ফোনের তুলনায় আনেক ভালো হওয়া উচিত। গেমিং ফোনে হাই গ্রাফিক্সের গেম খেলার সময় ফোনের প্রসেসর অনেক বেশী ভূমিকা ভালো রাখে। ভালো প্রসেসর না পেলে শান্তিমতো গেম খেলতে পারবেন না। আর গেম অনেক ল্যাগ করবে।

বাজারে দুই ধরনের প্রসেসরে নাম সবার মুখে মুখে। একটি মিডিয়াটেকের প্রসেসর অপরটি স্নাপড্রাগনের প্রসেসর। তবে আমরা গেমিং ফোনের প্রসেসর হিসাবে স্নাপড্রাগনের প্রসেসরকে বুঝি। প্রায় সব নামী দামী ব্রান্ডের নামী দামি ফোনে স্নাপড্রাগনের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।

আর স্নাপড্রাগনের প্রসেসর মিডিয়াটেকের প্রসেসরে থেকে অনেক ভালো পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে। মিডিয়াটেকে প্রসেসর যে খুব খারাপ তা কিন্তু নয়। মিডিয়াটেক এখন ভালো ভালো প্রসেসর তৈরী করা শুরু করে দিয়েছে। তাই ভালো কিছু ব্যান্ডের ফোনে মিডিয়াটেকের প্রসেসর ব্যবহার করা শুরু হয়ে গেছে।

এছাড়াও প্রসেসরের ক্ষেত্রে আমাদের যে জিনিসটা দিকে একটু খেয়াল রাখা উচিত তা হলো ক্লোক স্পীডের। যদি ভালো মানের প্রসেসরে ক্লক স্পিড বেশীই থাকে কিন্তু তবুও দেখে নেওয়া উচিত।

এবার আসি গ্রাফিক্সের কথায় প্রসেসর ভালো থাকলে গ্রাফিক্সও ভালো পাবেন তা নিশ্চিন্তে বলা যায়। আর একটি গেমিং ফোন হিসাবে প্রসেসর অবশ্যই ভালো হওয়া উচিত। গ্রাফিক্স ভালো না থাকলে আপনি গেমকে ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন না।

র‍্যাম ও রোম

একটি গেমিং ফোন হিসাবে র‍্যাম ও রোম তুলনামূলক একটু বেশী হওয়া উচিত। ৬ জিবি র‍্যাম বা ৮ জিবি র‍্যাম যথেষ্ট একট মোবাইল ফোনের এর চেয়ে বেশী র‍্যামে ও রোম থাকলেও সেটা ফোনের কোন কাজেই আসে না। যদি অতিরক্ত মাল্টি টাস্কিং থাকে তাহলে কাজে লাগতে পারে। কিন্তু, সেক্ষেত্রে, প্রসেসর ভালো হওয়া উচিত। প্রসেসর ব্যাকগ্রাউন্ডের এত টাস্ক চালাতে পারবে কি না তা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

তবে, রোম বেশী থাকাই ভালো বলে আমি মনে করি। কারণ, এক্সটার্নাল একটা এসডি কার্ড অনেকে ফোনে লাগাতে চায় না। তাই রোম বা মেমরী বেশী থাকে তাহলে অনেকখানি স্পেস আপনি আপনার ফোন থেকে পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, মাত্রা অতিরিক্ত অযথা ছাড়া আর কিছুই না।

আপনি যদি একটা গেমিং ফোন নেওয়ার চেষ্টায় থাকেন তাহলে মিনিমাম ৮ জিবি র‍্যামের ফোন নিন। ৬ জিবি র‍্যামের নিলেও কোন সমস্যা নেই। তবে প্রসেসর অবশ্যই অবশ্যই ভালো থাকা অত্যাবশ্যক।

ডিসপ্লে

গেমিং ফোন হিসাবে ডিসপ্লে অন্যান্য সব ফোনের থেকে একটু বেশী ফিচার সমৃদ্ব হতে হবে। আর অবশ্যই ডিসপ্লেতে আই প্রোটেকশন থাকা উচিত। কারণ একটানা বেশীক্ষণ গেম খেললে চোখের সমস্যা হতে পারে। তাই যদি আই প্রোটেক্টর থাকে তাহলে চোখ অনেকখানি রক্ষা পেতে পারে।

ডিসপ্লে হিসাবে অ্যামুলেটেড ডিসপ্লে গেমিং ফোনে নিশ্চিতে পাবেন। তবে আমার কাছে এলসিডি ডিসপ্লের ফোন ঠিক ঠাক লাগে। কারণ এলসিডি ডিসপ্লেতে কালার অ্যামুলেটেড ডিসপ্লের চেয়ে বাস্তব মনে হয়। বিশ্বাস না করলে আপনি নিজে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

আর, ডিসপ্লেটি অবশ্যই এইচডি প্লাস হওয়া উচিত এর সাথে সাথে ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট একটু বেশী থাকে জরুরী। রিফ্রেশ রেট বেশী থাকলে গেম আরো একটু স্মুথ নেসের সাথে খেলতে পারবেন। তবে ১২০ GHz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে গেমিং ফোনে পাবেন বলে আশা করা যায়।

ক্যামেরা

ক্যামেরাটা কী গেমিং ফোনে ভালো হওয়া জরুরী? যেটাই হোক না কেন ফোনের দাম যদি একটু বেশী হয় আর প্রসেসর যদি ভালো হয় তবে ক্যামেরাও আপনি অনেক ভালো পেয়ে যাবে। এটা নিয়ে আপনাকে বাড়তি চিন্তা করতে হবে না।

তবে, আপনি যদি ফেস ক্যাম মোবাইল দিয়েই করতে চান তাহলে অবশ্যই ফন্ট ক্যামেরাটা অনেকে ভালো হওয়া জরুরী।

ব্যাটারী

গেমিং ফোনের ব্যাটারী যেমন ভালো থাকা জরুরী ঠিক তেমনি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকা অত্যাবশ্যক। গেম খেললে চার্জ একটু বেশী যাবে তা মেনে নিতে হবে। তবে যদি ব্যাটারী একটু বেশী ও ভালো মানের থাকে তবে ব্যাকআপ আরো বেশী পাবেন। একটা দামী গেমিং ফোন হিসাবে ব্যটারী ৬০০০ এমএইচ হওয়া উচিত। আর ফাস্ট চার্জিং এর দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। ফোন যদি তাড়াতাডি ফুল চার্জ হয়ে যায় তাহলে তো আর কোন কথাই নেই।

বেশীরভাগে ফোনই ফাস্ট চার্জিং এর সুবিধা দিয়ে থাকে। আর গেমিং ফোন হিসাবে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে ফুল চার্জ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাহলে আপনাকে ফোন চার্জ নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না।


একটি মোবাইল ফোনের প্রসেসর, র‍্যাম, রোম, ব্যাটারী ইত্যাদি এগুলোই কিন্তু মূল ভিত্তি। তাই গেমিং ফোন হিসাবে এসব জিনিস তুলনামূক ভালো হওয়া উচিত। এছাড়াও বাজেট বলেও একটি কথা আছে। আপনার বাজেট যদি তুলনামূলক অনেক কম হয় এবং মোটামুটি গেম খেলার জন্য ৩/ ৪ জিবি র‍্যমের ফোন নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে যেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ফোনের প্রসেসর। কিন্তু, আমরা অনেকেই ফোনের প্রসেসরে দিকে নজর দেই না। ফোনের প্রসেসর ভালো না হলে র‍্যাম, রোম বেশী থাকলেও তা কোন কাজে আসবে। তা গেমিং এর জন্য ফোন কেনার সময় প্রথমে প্রসেসর এরপর র‍্যাম ও রোম দেখবে। এই দুইটা জিনিস ভালো থাকলে বাকী জিনিসগুলো অনেক ভালো পেয়ে যাবে।
আর ফোন কেনার আগে অবশ্যই একজন এক্সপার্টের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করুন।

Leave a Comment