ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায়

এই আর্টিকেলটিতে আমরা ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার জন্য আপনার কি করণীয় আর কি করা উচিত নয় তা এই পোস্ট থেকে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবেন।

ফেসবুক বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা খুব সহজে একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি। আর এই ফেসবুক আইডিতে আমাদের অনেক ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

ব্যাক্তিগত তথ্য ছাড়াও অন্যর সাথে বিভিন্ন কনভারসেশন ও আমাদের ফেসবুক আইডিতে রয়েছে। তাই এ সকল তথ্য আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমাদের ফেসবুক আইডিকে নিরাপদ রাখা বাঞ্ছনীয়।

যদি আপনি আপনার ফেসবুক আইডিকে নিরাপদ রাখতে চান তাহলে এই পয়েন্টগুলো মনযোগ সহকারে পড়ুন।

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায়

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই প্রথমে সিকিউরিটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই আগে আইডি সিকিউর রাখা নিয়ে কথা বলি।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন

ফেসবুক আইডিকে সিকিউরিটির এর দিক থেকে নিরাপদ রাখার জন্য টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনকে অবশ্যই চালু রাখতে হবে। টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সাধারণ ভাবে ফেসবুক আইডিকে অনেক নিরাপদ রাখে।

আপনার ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড যদি অন্য কেউ জেনে যায় তবে, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন রাখলে OTP কোড ছাড়া কেউ ফেসবুক আইডিতে লগইন করতে পারবে না।

মোবাইল নাম্বার কিংবা অথোরাইজেশন অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক আইডিতে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করে নিতে পারেন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার

ফেসবুক আইডিকে অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে নিরাপদ রাখুন। সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে অনেক সহজে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

শক্তিশালী পাওয়ার্ড বলে বড় কোন পাসওয়ার্ড বা বাক্যকে বোঝায় না। শক্তিশালী হলো Capital Letter, Small Letter, Number Character এর সংমিশ্রিত পাসওয়ার্ড।

একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এর উদাহরণ – g+-dCZ5*^y#%CMy

যদিও এই ধরনের পাসওয়ার্ড মনে রাখা খুব কষ্ট সাধ্য। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে পাসওয়ার্ড গুগল পাসওয়ার্ড মেনেজারে সেভ করে কিংবা কোথা লিখে রাখতে পারেন।

নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন

আমরা অনেকই পাসওয়ার্ড পরিবর্তনে অলসতার উদাহরণ দিয়ে থাকি। নিয়মিত পাসওয়ার্ড বেশীরভাগ লোকেই পরিবর্তন করে না। কিন্তু, ফেসবুক আইডিকে নিরাপদ রাখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই এই অলসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তাই সপ্তাহে কিংবা মাসে কয়েকবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। আপনি কি নিয়মিত আপনার ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেন? তা অবশ্যই কমেন্টে মাধ্যমে জানাবেন।

ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড যুক্ত

ফেসবুকের এই নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে আমরা অনেকেই অবগত নই। ফেসবুকের Security Settings এ আপনারা এই ফিচারটি পেয়ে যাবেন।

যদি কোন কারণে আপনি আপনার ফেসবুক এর পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন আর রিকোভারি করার যদি কোন উপায় না থাকে অথবা, যদি আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে এই ফিচারটি ব্যবহার করে আপনি আপনার ফেসবুক আইডি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাই অবশ্যই ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড ফিচারটি ব্যবহার করুন এবং সেখানে অবশ্যই বিশ্বস্ত বন্ধু-বান্ধবদের যুক্ত করে রাখুন।


এসব ছিল সিকিউরিটির এর দিক দিয়ে আপনার ফেসবুক আইডিকে নিরাপদ রাখার উপায়। সিকিউরিটির ছাড়াও ফেসবুকের Terms & Condition মেনে আপনাকে ফেসবুক আইডি চালাতে হবে। এমন কোন Illegal Activity করা যাবে না যাতে করে আপনার ফেসবুক আইডি ব্যান করে দেয়। এমন কিছু বিষয় হলো –

স্প্যাম কমেন্ট

স্প্যাম কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এমন কোন কমেন্ট করবেন না যাতে করে ফেসবুক তা স্প্যাম হিসাবে ডিটেক্ট করে।

লিংক শেয়ার

ফেসবুক থেকে ব্লক করে দেওয়া লিংক, পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের লিং, ড্রাগ – অস্ত্র কেনাবেচা ইত্যাদি Illegal লিংক শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

স্ট্যাটাস

এমন কোন স্ট্যাটাস পোস্ট করবেন না যেটা ফেবুকের Community Guidelines এর বিরুদ্ধে যায়। ফটো আপলোডের ক্ষেত্রেও এই বিষয় মেনে চলুন।

রিয়েল নাম ব্যবহার করুন

ফেসবুক আইডিতে আপনি আপনার নিজের নাম ব্যবহার করুন। যে নাম আপনার NID তে রয়েছে সেই নামই ব্যবহার করুন। এতে করে যদি আপনার ফেসবুক আইডি ব্যান করে দেয় বা হ্যাক হয়ে যায় তাহলে, NID কার্ড সাবমিশনের মাধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক আইডি ফেরত পেলেও পেতে পারেন।


শেষ কথা

এই ছিল ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত একটি আর্টিকেল। আপনি যদি আপনার ফেসবুক আইডিকে নিরাপদ রাখতে চান তাহলে এই উপায়গুলো মেনে চলুন। তাহলে অনেকখানি নিরাপদ রাখতে পারবেন আপনার ফেসবুক আইডিকে। যদিও ইন্টারনেট সব কিছু ১০০% নিরাপদ নয়। তবে এসব উপায় মেনে আপনি আপনার ফেসবুক আইডিকে কিছুটা হলেও নিরাপদ রাখতে পারবেন।

Leave a Comment